জার্মানিতে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বৈষম্যকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। পুনঃএকত্রীকরণের ৩৫ বছর পরও পূর্ব জার্মানির অনেক অঞ্চলে কম জন্মহার, তরুণদের অন্যত্র চলে যাওয়া এবং দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ বাড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুনঃএকত্রীকরণের পর জার্মানির মোট জনসংখ্যা অভিবাসনের কারণে বেড়েছে। তবে সাবেক পূর্ব জার্মানির পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যা গড়ে ১৬ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে স্যাক্সনি-আনহাল্টে এই হার প্রায় ২৬ শতাংশ। কর্মসংস্থানের খোঁজে পশ্চিমাঞ্চলে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের চলে যাওয়ায় অনেক গ্রামীণ এলাকায় শ্রমশক্তির সংকট এবং জন্মহার আরও কমে গেছে।
জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব এখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাতেও পড়ছে। শিশু কম জন্ম নেওয়ায় অনেক ডে-কেয়ার ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দোকান, স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও সংকুচিত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে কর্মক্ষম মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসংখ্যাগত সংকট রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকায় হতাশা, অবকাঠামোগত স্থবিরতা এবং উন্নয়নবঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি থেকে ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD) দলের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। যদিও গবেষকরা বলছেন, জনসংখ্যা হ্রাস একমাত্র কারণ নয়; তবে এটি রাজনৈতিক অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু অভিবাসনের ওপর নির্ভর না করে পরিবারবান্ধব নীতি, উন্নত শিশু পরিচর্যা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাসের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় পূর্ব জার্মানির জনসংখ্যা সংকট ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
















