ফরাসি শাসিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিউ ক্যালেডোনিয়ার দীর্ঘ বিলম্বিত প্রাদেশিক নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী (ফ্রান্সপন্থী) জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনে ছোট একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন এখন নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, স্থানীয় আইন প্রণয়ন ও সরকার গঠনের ক্ষমতাসম্পন্ন ৫৪ সদস্যের কংগ্রেসে প্রধান ফ্রান্সপন্থী জোট ২৪টি আসন পেয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে চারটি কম। অন্যদিকে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ২৬টি আসন পেলেও তারা তিনটি পৃথক জোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে। বাকি চারটি আসন পেয়েছে দ্বীপপুঞ্জের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দল।
নির্বাচনের ফল নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দলগুলো, অন্যদিকে আদিবাসী কানাক জনগোষ্ঠীভিত্তিক স্বাধীনতাপন্থী জোট—এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। নির্বাচনে জয়ী ফ্রান্সপন্থী জোটের নেতা সোনিয়া ব্যাকেস দাবি করেছেন, ভোটাররা ফ্রান্সের সঙ্গেই থাকার পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
স্বাধীনতাপন্থী এফএলএনকেএস (FLNKS) জোটের নেতারা অবশ্য নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন ও ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনায় তারা শক্ত অবস্থান নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জোট রাজনীতিই নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ সরকার নির্ধারণ করবে।
২০২৪ সালে সহিংস দাঙ্গার কারণে স্থগিত হওয়া এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের নিরাপত্তায় প্রায় ২,৪০০ পুলিশ ও জেন্ডার্ম মোতায়েন ছিল। তবে ভোটার উপস্থিতি ২০১৯ সালের তুলনায় কিছুটা কমে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
















