ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: অন্ধকারে বহু অঞ্চল, নিহত অন্তত ১১ জন
৯ নভেম্বর ২০২৫: ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যুদ্ধের চতুর্থ বছর ঘনিয়ে আসলেও শান্তি প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০৩টি হামলা চালায়।
| হামলার ধরন | মোট সংখ্যা | প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে |
| ক্ষেপণাস্ত্র | ৪৫টি | ৯টি |
| ড্রোন | ৪৫৮টি | ৪০৬টি |
হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক এলাকায় ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই হামলায় হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ‘উচ্চনির্ভুল দূরপাল্লার অস্ত্র’ ব্যবহার করেছে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:
- জাপোরিঝিয়া: গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, হামলায় তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- দিনিপ্রো: পূর্বাঞ্চলীয় এই অঞ্চলে এক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তিনজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে।
- খেরসন: গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, বহু তলা ভবন, বাড়িঘর ও গাড়িতে হামলায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
- দোনেৎস্ক: দুই জেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
- কিয়েভ ও পলতাভা: কিয়েভের ভিশহোরদ জেলায় হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন। পলতাভা অঞ্চলে ‘বৃহৎ মাত্রার হামলা’ হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং রোলিং ব্ল্যাকআউট চালু করা হয়েছে।
জেলেনস্কির আহ্বান: নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে শীত আসার আগেই রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেশটির সম্পদ জব্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার হামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, চাপ আরও বাড়াতে হবে। রুশ পারমাণবিক খাত এখনো নিষেধাজ্ঞার বাইরে, তাদের সামরিক শিল্প পশ্চিমা ইলেকট্রনিক্স পাচ্ছে, তেল ও গ্যাস বাণিজ্যেও আরও কড়াকড়ি দরকার।”
ফ্রন্টলাইনে তীব্র লড়াই
দোনেৎস্কের ফ্রন্টলাইনের শহর পাকরোভস্কে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। শহরটির দখল নিতে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা সমবেত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা শহরের পূর্বাংশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
পূর্ব ইউরোপে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার এমন ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে উদ্বেগ ও মানবিক সংকট আরও বাড়ছে।
















