মেক্সিকো-র ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র তেওতিহুয়াকান পিরামিড কমপ্লেক্স-এ সাম্প্রতিক বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এই হামলার সঙ্গে কোনো মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এই হামলায় এক কানাডীয় নারী নিহত হন এবং আরও কয়েকজন পর্যটক আহত হন। হামলাকারী নিজেও পরে আত্মহত্যা করে।
তদন্তে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী হামলাকারী একাই এই হামলা চালিয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত অপরাধচক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হোসে লুইস সার্ভান্তেস মার্টিনেজ জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একক হামলা।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, গুলি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু নথি ও উপকরণ পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের সহিংস ঘটনার অনুকরণে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের কলাম্বাইন স্কুল হামলা-র সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও হামলাকারীকে ওই ঘটনার উল্লেখ করতে শুনেছেন।
মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে মাদক কার্টেলগুলোর সংঘর্ষের কারণে। তবে এই হামলাটি সেই ধরণের নয়, বরং একক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত গণহামলার নতুন ধরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এমন এক প্রবণতার ইঙ্গিত, যেখানে অন্য দেশের গণহামলার ঘটনাগুলো অনুকরণ করা হচ্ছে। তারা এটিকে উদ্বেগজনক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম হামলার নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যদিও সরকার বলছে দেশে হত্যার হার কমেছে, সমালোচকরা মনে করছেন, নিখোঁজ ও সহিংসতার প্রকৃত চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।
সব মিলিয়ে, একক হামলাকারীর এই ঘটনা মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বড় আয়োজনের প্রাক্কালে।














