যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত নতুন ইসরায়েল-লেবানন কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম চুক্তিটিকে “অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে নাইম কাসেম বলেন, ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, “প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে” এবং ইসরায়েলি দখল শেষ না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা নেই। বরং এতে দুই দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি যোগাযোগ, শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ হলেও ইসরায়েল সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে।
চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। তারা সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেবাননের সেনাবাহিনী জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সহিংসতা প্রতিরোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবারও দক্ষিণাঞ্চলের মারকাবা ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার কাছে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশে ৪,২৪৬ জন নিহত এবং ১২,১৯০ জন আহত হয়েছেন।
চুক্তি নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে স্থিতিশীলতার সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন, আবার হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্ররা একে লেবাননের জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
















