সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন রোববার (০৯ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের কিছু বিষয় জানানোর ছিল।’
তবে ওই কর্মকর্তা বৈঠকের বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
প্রসঙ্গত: গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন একটি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর আগে ঢাকা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সামনে তার ওই উপস্থিতির পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কঠোর বিবৃতি দেয়।
গত ৫ আগস্ট গভীর রাতে দেওয়া ওই বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছিল, তা বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।
পরবর্তীতে গত শুক্রবার ( ০৭ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই গণমাধ্যম আয়োজনে শেখ হাসিনা ও অন্যরা যা বলেছিলেন, ভারত এর কোনোটিই সমর্থন করে না।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজনটির আয়োজক ছিল একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং এর আয়োজনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না
এদিকে, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে ঢাকা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমান-কে নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা আমরা এখনো জানি না।”
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে আগ্রহী; কারণ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে
















