চীন নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বে আরও এক ধাপ এগিয়ে: সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’-এর কমিশনিং
৯ নভেম্বর ২০২৫: যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে টেক্কা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চীন তাদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপ চীনের দ্রুত সামরিক আধুনিকীকরণ এবং নৌবাহিনীর সম্প্রসারণকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সপ্তাহের শুরুতে হাইনান দ্বীপের সানিয়া সামরিক বন্দরে ‘ফুজিয়ান’-এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
‘ইমালস’ প্রযুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের পরই চীনের এই রণতরী
‘ফুজিয়ান’ হলো চীনের তৃতীয়, সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবাহী রণতরী। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:
- তড়িৎ-চুম্বকীয় বিমান উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (EMALS): এটি এমন এক নতুন প্রযুক্তি, যা বিদ্যুৎ-চুম্বকের প্রচণ্ড শক্তিতে যুদ্ধবিমানগুলোকে ছুড়ে দেয়।
- সুবিধা: এই প্রযুক্তির ফলে যুদ্ধবিমানগুলো অনেক বেশি পরিমাণে অস্ত্র ও জ্বালানি নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারে এবং আরও দূরবর্তী লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এই প্রযুক্তি দিয়ে তিন ধরনের বিমান উড্ডয়ন করানো সম্ভব।
- বিশ্বে দ্বিতীয়: এখন পর্যন্ত বিশ্বে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এ এই প্রযুক্তি রয়েছে। চীনা গণমাধ্যম অনুসারে, ‘ফুজিয়ান’-এ এই উন্নত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন।
কমিশনিং অনুষ্ঠান ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনী
বুধবার বিকেলে আয়োজিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানে দুই হাজারের বেশি নৌবাহিনীর সদস্য ও রণতরী নির্মাণকর্মীর উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর তিনি পুরো জাহাজটি ঘুরে দেখেন এবং পরীক্ষামূলকভাবে বিমান উৎক্ষেপণের বোতাম চাপেন।
রণতরীর উড্ডয়ন ডেকে (ফ্লাইট ডেক) চীনের জে-৩৫, জে-১৫টি এবং কেজে-৬০০ যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করা হয়। কাছেই নোঙর করা ছিল দেশটির দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘শানডং’, যা এই শক্তি প্রদর্শনীতে নতুন মাত্রা যোগ করে।
নৌ-ক্ষমতায় চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী গড়ে তুলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রশান্ত মহাসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
| তুলনামূলক চিত্র | চীন (পিএলএএন) | যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস নেভি) |
| জাহাজের সংখ্যা | ওয়াশিংটনের চেয়ে বড় | সংখ্যার দিক থেকে পিছিয়ে |
| প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব | দ্রুত আধুনিকীকরণ হচ্ছে | এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে |
| রণতরীর সংখ্যা | প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বে পিছিয়ে | সংখ্যায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে |
| ‘ফুজিয়ান’-এর জ্বালানি | প্রচলিত জ্বালানিচালিত | পারমাণবিক শক্তিচালিত (দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকতে পারে) |
| ‘ফুজিয়ান’-এর সক্ষমতা | ৮০ হাজার টন ওজন বহনে সক্ষম | ৯৭ হাজার টনের নিমিৎজ-ক্লাস রণতরীর কাছাকাছি |
চীন ইতোমধ্যে টাইপ ০০৪ নামে আরেকটি রণতরী তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা শুধু ইমালস প্রযুক্তিই নয়, পারমাণবিক শক্তিচালিতও হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















