চরম তাপদাহ, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাজারো মোটরসাইকেল আরোহী। সীমান্তবর্তী দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের বৃহত্তম ও সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশের একটি অঞ্চলের বাসিন্দা এক ব্যক্তি জানান, তার ছোট মোটরসাইকেলে কয়েকশ কেজি ওজনের জ্বালানি বহন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা এই জ্বালানি সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয় এবং পরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বিক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিলে বাজারে দাম বেড়ে যায়। এতে তুলনামূলক কম দামের চোরাই জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সেই সুযোগে সীমান্তপথে পাচার কার্যক্রমও বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অত্যধিক গরমে প্লাস্টিকের পাত্র ফুলে ওঠে এবং ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চলন্ত অবস্থায় জ্বালানি ছড়িয়ে পড়লে আগুন ধরে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। স্থানীয়দের মতে, এমন দুর্ঘটনায় নিয়মিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ফলে জ্বালানি পরিবহনকারীদের শুধু দুর্ঘটনাই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখেও কাজ করতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে অনেক শিক্ষিত তরুণও এই ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। কৃষিকাজে খরা ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়ায় বহু মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে জ্বালানি পাচারের পথে নামছেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাদের একজন জানান, শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য কোনো কাজ পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি জ্বালানি পরিবহন করছেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি পেট্রলের পরিবর্তে ডিজেল বহন করেন।
যদিও জ্বালানি পাচার পাকিস্তানে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, তবুও সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার নির্ভরতার কারণে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহল জানিয়েছে, অবৈধ জ্বালানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে বৈধ জ্বালানি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে সরকারি রাজস্ব ও আনুষ্ঠানিক বাজার উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি পরিবহনকারী এক ব্যক্তি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার আয় কমে গেছে। জ্বালানি কেনার খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রিমূল্য আগের মতোই রয়েছে। তবুও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
















