দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন উত্থান নতুন প্রজন্মের লাখো বিনিয়োগকারীকে বাজারমুখী করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে সম্পদ সঞ্চয়ের প্রধান মাধ্যম ছিল আবাসন খাত, সেখানে এখন অনেক সাধারণ নাগরিক প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরু করছেন।
রাজধানী সিউলের এক কর্মজীবী নারী জানান, বাসার জামানত পরিশোধের পর হাতে কিছু অতিরিক্ত অর্থ আসায় তিনি প্রথমবারের মতো শেয়ার কেনেন। বাজার সম্পর্কে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তার বিনিয়োগের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শেয়ার মালিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের শেয়ার মালিকানা ছিল, ২০২৫ সালের শেষে সেই সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক গত কয়েক মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বিশ্বের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সক্রিয় লেনদেন হিসাবের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে কম মূল্যায়িত বাজার হিসেবে দেখতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষার কারণে দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি ছিল।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে শেয়ারবাজার সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অধিকার সুরক্ষা, পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং করপোরেট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে স্মৃতি চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড মুনাফা অর্জন করছে। এই প্রবৃদ্ধিও শেয়ারবাজারের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বাজারের দ্রুত উত্থানের পাশাপাশি অস্থিরতাও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সূচকে বড় ধরনের পতনের ঘটনাও দেখা গেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
















