প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কেউ বেকার থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করা হবে।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিএনপি কখনো বেকারত্ব সৃষ্টি করেনি, বরং কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিএনপি দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের এই ধারার সূচনা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে অসংখ্য উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হয়েছে।
গার্মেন্টস খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নীতিগত সহায়তায় তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করছেন, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
রিজভী বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ গড়ে উঠছে, সেখানে কেউ বেকার থাকবে না। বিভিন্ন উদ্যোগ ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আরও প্রসার ঘটবে।”
হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার উচ্ছেদের পরিবর্তে পুনর্বাসনের নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ একজন হকারের সঙ্গে একটি পরিবারের জীবিকা জড়িত। তাঁর দাবি, কোনো সরকারপ্রধান প্রথমবারের মতো হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, অসহায়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। বিশেষ করে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে তিনি প্রায় ১ হাজার ৬০০ মাইল খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মাছ চাষের সুযোগও তৈরি হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাও করেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।
















