উগান্ডায় নতুন করে আরও তিনজনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে চলমান প্রাদুর্ভাবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। সংক্রমণ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ এখন জোরদারভাবে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ চালাচ্ছে।
একই সময়ে আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার বর্তমান ধরনটির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দশটি দেশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, কঙ্গোতে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি এখন খুবই উচ্চ, আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিম্ন।
কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত শত শত সন্দেহভাজন আক্রান্ত ও বহু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ শনাক্তে দেরি, কার্যকর টিকা না থাকা, সশস্ত্র সহিংসতা এবং মানুষের অবাধ চলাচলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডা ইতোমধ্যে কঙ্গোর সঙ্গে সব ধরনের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন চালক, যিনি প্রথম শনাক্ত রোগীকে বহন করেছিলেন এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী, যিনি আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার সময় সংস্পর্শে এসেছিলেন।
আরেকজন আক্রান্ত নারী কঙ্গো থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে উগান্ডায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে রাজধানীতে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলা ধরা পড়ে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে কঙ্গোর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্দেহভাজন বহু রোগী পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার অনেক দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
উগান্ডা, ইবোলা ভাইরাস, আফ্রিকা, স্বাস্থ্য সংকট, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
















