বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র করা হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। একইসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল করার চেষ্টার পরিণাম ভালো হবে না।
তিনি গতকাল (শুক্রবার, ৭ নভেম্বর) বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা:
মির্জা ফখরুল অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন:
- টালবাহানার পরিণতি: তিনি সতর্ক করেন, যদি নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা করা হয়, তবে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, “বিএনপি জানে কীভাবে নির্বাচন আদায় করতে হয়।”
- সহযোগিতা ও ব্যর্থতা: বিএনপি-সহ দেশের প্রগতিশীল ও স্বৈরাচারবিরোধী দলগুলো এই সরকারকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে আসছে। তিনি বলেন, “ব্যর্থতার দায় নিয়ে আপনাদের বিদায় হোক সেটা বিএনপি চায় না।”
- অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী: তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি দল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ঘোলা করার চেষ্টা করছে, যার পরিণাম কখনো ভালো হবে না।
- গণতন্ত্রের আহ্বান: তিনি ইউনূস সরকারকে অবিলম্বে গণতন্ত্রের দিকে ফিরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এবং জনগণের অধিকার হরণ না করার কথা বলেন।
- ক্ষমতার ধারণা: তিনি বলেন, “আমরা অনেক সহ্য করেছি। বিএনপি রাজপথে ভেসে আসা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। ফলে আমাদের ফেলনা মনে করলে ভুল করবে।”
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে অবস্থান:
- নির্বাচনের আগে গণভোট নয়: বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচনের আগে কোনো গণভোট নয়।”
তাঁর মতে, এটা হলে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। - একই দিনে গণভোট: তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে পারে।
- ঐকমত্য কমিশনের সমালোচনা: তিনি বলেন, ইউনূসের সরকার ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন করলেও, উপদেষ্টা পরিষদ পরে রাজনৈতিক দলগুলোকে বসে একমত পোষণ করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন, যা ঠিক হয়নি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো উপদেষ্টাদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়নি।
তরিকুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন:
- আদর্শ ও সংগ্রাম: তিনি তরিকুল ইসলামকে আজীবন সংগ্রামী কিংবদন্তিতুল্য নেতা আখ্যা দেন যিনি আজন্ম মা, মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন।
- স্বৈরাচার মুক্তি: তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন, কিন্তু সেই স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি।
- ক্ষণজন্মা পুরুষ: তিনি তরিকুল ইসলামকে একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ হিসেবে অভিহিত করেন এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
৭ই নভেম্বরের তাৎপর্য:
তিনি আজকের মতোই ৭ই নভেম্বরকে জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক জনতা এক হয়ে জাতিকে এক মহা দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এই জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে দেশের দামাল ছেলেরা যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তাদের সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবে রূপ পায়নি।
স্মরণসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব যশোরের ৫টি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
















