জাপানের গাড়ি নির্মাতা হোন্ডা মোটর কোম্পানি বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় ধাক্কা খেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও প্রতিকূল মুদ্রা বিনিময় হার কোম্পানির মুনাফায় গভীর ছায়া ফেলেছে।
শুক্রবার হোন্ডা জানায়, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩১১.৮ বিলিয়ন ইয়েনে, যা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সমান। গত বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ৪৯৪.৬ বিলিয়ন ইয়েন।
টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ছয় মাসে তাদের বিক্রয় কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে, যা আগের বছরের ১০.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েনের তুলনায় ১.৫ শতাংশ কম।
আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত (মার্চ ২০২৬) হোন্ডা এখন ৩০০ বিলিয়ন ইয়েন মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ৪২০ বিলিয়ন ইয়েন মুনাফার প্রত্যাশা করেছিল।
হোন্ডা জানিয়েছে, মুদ্রা বিনিময় হারের নেতিবাচক প্রভাবেই তাদের ১১৬ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৫৬ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হয়েছে।
তবে ক্ষতির এই অন্ধকারে একটুকরো আলোও আছে—মোটরসাইকেল বিক্রিতে রেকর্ড সফলতা। এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে ভিয়েতনাম বাদে অন্যান্য দেশে, বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রথম ছয় মাসে হোন্ডা বিক্রি করেছে ৯ মিলিয়নেরও বেশি মোটরসাইকেল, যা গত বছরের ৮.৮ মিলিয়ন থেকে বেশি। বিশ্বব্যাপী এই বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৭ মিলিয়ন ইউনিটে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, গাড়ি বিক্রিতে দেখা গেছে পতন। প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী হোন্ডা বিক্রি করেছে ১.৬৮ মিলিয়ন গাড়ি, যা আগের বছরের ১.৭৮ মিলিয়ন থেকে কম। উত্তর আমেরিকায় বিক্রি সামান্য বাড়লেও জাপান, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে কমে গেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে হোন্ডার নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা থেকে প্রায় ১৬৪ বিলিয়ন ইয়েন (১.১ বিলিয়ন ডলার) হারাতে হয়েছে।
এর পাশাপাশি চিপ সংকটও নতুন বিপদ ডেকে এনেছে। নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত চীনা মালিকানাধীন চিপ কোম্পানি নেক্সপেরিয়ার ওপর ডাচ সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চীন তাদের ডংগুয়ানের কারখানা থেকে রপ্তানি স্থগিত করে দেয়। যদিও পরে সেই রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে, ততদিনে হোন্ডার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে মারাত্মকভাবে।
মেক্সিকোর সেলায়া কারখানায় ২৮ অক্টোবর থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উত্তর আমেরিকার কয়েকটি কারখানার কার্যক্রমও সমন্বয় করা হয়েছে ২৭ অক্টোবর থেকে। কোম্পানিটি এখনো জানায়নি, কবে উৎপাদন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
একদিকে ট্রাম্পের শুল্কের বোঝা, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের অনিশ্চয়তা—এই দুই চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে হোন্ডা যেন এক ভারসাম্যহীন সময়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটছে। তবু মোটরসাইকেলের গর্জন এখনো মনে করিয়ে দিচ্ছে—যন্ত্রের দুনিয়ায় হোন্ডার হৃদস্পন্দন এখনো থেমে যায়নি।
















