গভীরতর মানবিক সংকটে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে জরুরি খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “একটি ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে।” কিন্তু তহবিলের মারাত্মক ঘাটতি এবং দুর্গম এলাকার কারণে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে পারছে না।
সংস্থাটির দেশীয় পরিচালক সিনথিয়া জোন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কম অর্থায়নের পর্যায়ে আছি। এ বছর আমরা মাত্র ১৫ কোটি ডলার পেয়েছি, অথচ কার্যকরভাবে সাহায্য চালিয়ে যেতে ৩৫ কোটি ডলার প্রয়োজন।”
তিনি জানান, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, ইতুরি ও টাঙ্গানিকা প্রদেশে প্রতি তিনজনের একজন মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে—সংখ্যাটি ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার মুখোমুখি, যাদের জীবনে খাদ্য বলতে এখন শুধুই এক অপ্রাপ্য স্বপ্ন।
জোন্স বলেন, “গত বছরের তুলনায় চরম ক্ষুধায় ভোগা মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেকে ইতিমধ্যেই ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে।”
বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে এই অঞ্চল আজ পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয়ের মঞ্চে। ২০২১ সালে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট বলে অভিযোগ থাকা এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পুনরায় অস্ত্র তুলে নিলে পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। গোমা ও বুকাভু শহর দখল করে তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসন চালু করেছে, এমনকি আশপাশের খনিগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
রুয়ান্ডা বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে এম২৩ ও কঙ্গোর সরকারি বাহিনী উভয়ই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত।
জোন্স সতর্ক করে বলেন, অর্থের অভাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পূর্বাঞ্চলে জরুরি খাদ্য সহায়তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, গোমা ও বুকাভুর দুটি বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এখন রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একটি বিমানপথ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যা কিনশাসা থেকে সাহায্য পাঠানোর তুলনায় অনেক দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে তারা মনে করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়েক বছর আগেও তারা বছরে ৬০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেত, ২০২৪ সালে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩৮০ মিলিয়নে। এবার পরিস্থিতি আরও শোচনীয়।
জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার মতো বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান দাতাদের সহায়তা কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর বিদেশি সহায়তা বাজেট সংকুচিত হওয়ায় আফ্রিকার কোটি মানুষের পাতে এখন আর ভাতের কণা জোটে না।
কঙ্গোর আকাশে ধোঁয়া ভেসে বেড়ায়, মাটিতে শিশুদের ক্ষুধার কান্না প্রতিধ্বনিত হয়—তবু সহায়তার হাত এখন দূরেই।
















