পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে সীমান্ত হামলার অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে গোলাগুলিতে অন্তত তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার ও রকেট হামলা চালিয়েছে, যাতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হামলায় শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কুনারের আসাদাবাদে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হামলা হয়নি এবং এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ঘটনাটি যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।
গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা কয়েক সপ্তাহের সহিংসতা বন্ধ করতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো সেই সমঝোতাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ, বিশেষ করে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান নামের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত হতে পারে।
















