লেবানন-এর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং হিজবুল্লাহ-কে নিরস্ত্রীকরণ কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয়—এর জন্য প্রয়োজন একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় পর লেবাননের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননকে নিজের সার্বভৌমত্ব কার্যকরভাবে প্রমাণ করতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল নিজস্ব নিরাপত্তার নামে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রেখে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে লেবাননের ওপর চাপ তৈরি করা হলেও বাস্তবে দেশটির জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহ দুর্বল এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে থাকলেও বাস্তবে একটি দুর্বল সরকার দিয়ে কার্যকর শাসন সম্ভব নয়।
অতীতে ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে অভিযান চালিয়ে পিএলও-কে সরিয়ে দিলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই হিজবুল্লাহ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বর্তমানেও একই ধরনের চক্রের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এক প্রভাবশালী শক্তির প্রভাব কমলে অন্য শক্তি সেখানে প্রভাব বিস্তার করছে, কিন্তু এতে প্রকৃত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।
লেবাননের বর্তমান সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তাদের সক্ষমতা সীমিত। দেশটির সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে দায়িত্ব নিতে পারে, তবে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর অস্ত্র কেবল সামরিক শক্তির বিষয় নয়, এটি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতাও। তাই এটিকে টেকসইভাবে নিরস্ত করতে হলে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া একটি কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন ধাপে ধাপে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার, হামলা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তাদের মতে, দ্রুত সামরিক সমাধান চাপিয়ে দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। বরং ধীর, বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের সংকটের সমাধান সামরিক পথে নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্ভব।
















