রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিলেন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা
বর্তমান বিএনপি সরকারের শাসনকালেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এই মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য কার্য-উপদেষ্টা কমিটি ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেছে।
সংসদীয় আলোচনার মূল বিষয়সমূহ:
- অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে, যা বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে নিয়ে যাবে।
- জুলাই সনদ ও আইনি কাঠামো: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ নেই। জনগণ বিএনপিকে আইন প্রণয়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সবকিছু আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
- শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া ১২০০ শহীদের তথ্যের বিপরীতে গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- গণতন্ত্র ও ঐক্য: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রায় দুই দশক পর দেশ প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার উপযোগী একটি সংসদ পেয়েছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে নতুন কোনো ‘ন্যারেটিভ’ বা বিভ্রান্তি তৈরি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্য:
- এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি): কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংসদ গঠিত হলেও সরকারের ভেতর অনেক সময় ‘ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি’ দেখা যাচ্ছে।
- উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন: ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল বাতেন তাঁর এলাকায় বসবাসরত উর্দুভাষী মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, সোহেল তাজ (আহাম্মদ সোহেল মনজুর), জামায়াতে ইসলামীর এম আবদুল আলিমসহ খেলাফত মজলিশ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।
















