আন্তর্জাতিক উদাসীনতা ও ভূরাজনীতির খেলায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ বিশ্বের দীর্ঘতম সংঘাতগুলোর একটি হলেও এর মানবিক বিপর্যয় এখনো অনেকাংশে উপেক্ষিত। দেশটির সামরিক বাহিনী তাতমাদাও শুধু দেশের ভেতরেই সহিংসতা চালাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা সিদ্ধান্ত ও উদাসীনতার ফলেও তাদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন জান্তা জোরপূর্বক সৈন্যভর্তি নীতি চালু করে। এতে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়, আবার অনেকে পালিয়ে যায় বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেয়।
এই সংঘাতের বড় একটি মানবিক দিক হলো রোহিঙ্গা সংকট। লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকেই আবার সাগরপথে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আসিয়ান-এর ‘ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস’ সহিংসতা থামানোর আহ্বান জানালেও বাস্তবে তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। চীন মিয়ানমারকে ভারত মহাসাগরের প্রবেশপথ হিসেবে দেখে এবং সামরিক বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। একইভাবে রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে জান্তাকে শক্তিশালী করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করলেও তা সামরিক বাহিনীর আচরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতেও উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করছে, তবে এখনো স্থায়ী সমাধান অধরা।
সব মিলিয়ে, মিয়ানমারের সংকট শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সীমিত উদ্যোগ, আঞ্চলিক দেশগুলোর দ্বিধা এবং বড় শক্তিগুলোর স্বার্থপর অবস্থান মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই সংকটের প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ না বাড়ে, তবে সহিংসতা আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
















