১৪ বছরেও চার্জশিট না হওয়াকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে টাস্কফোর্সকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবরও টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের কার্যক্রম ও পর্যবেক্ষণ:
- অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য: রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান (রুহুল কুদ্দুস কাজল) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ছয় মাস সময় প্রার্থনা করেন। শুনানিকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চার্জশিট দাখিল করতে না পারাটা ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’।
- আইনজীবীদের যুক্তি: রিট আবেদনকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। আদালত টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার প্রেক্ষিতে নতুন এই সময় মঞ্জুর করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
- হত্যাকাণ্ড: ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনী নির্মমভাবে খুন হন। তখন তাঁদের একমাত্র সন্তান মাহির সারোয়ার মেঘ ওই বাসাতেই ছিল।
- তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা: নিম্ন আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৫ বার পিছিয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল ঢাকা আদালত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ৭ মে নির্ধারণ করেছেন।
- টাস্কফোর্স গঠন: ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার পিবিআই (PBI) প্রধানের নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স গঠন করে।
সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও অমীমাংসিত মামলা। বারবার সময় বৃদ্ধির ফলে প্রকৃত বিচার পাওয়া নিয়ে জনমনে শঙ্কা ও অসন্তোষ দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিদ্যমান।
















