আফ্রিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ দেশ জাম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বর্ণবৈষম্যবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করলেও, দেশটির ভেতরে এখনো সূক্ষ্ম বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে।
স্বাধীনতার ছয় দশক পরও অনেক নাগরিকের দাবি, প্রতিদিনের জীবনে অদৃশ্যভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। চাকরি, বাসা ভাড়া বা সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের অনেক সময় উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানী লুসাকায় বসবাসকারী এক ব্যক্তি জানান, একটি রেস্তোরাঁয় তাদের কাছে দামি পানীয় নেই বলা হলেও পরে শ্বেতাঙ্গ অতিথিদের সেই একই পানীয় দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
১৯৬৪ সালে স্বাধীনতার পর দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট কেনেথ কাউন্ডা বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তার নীতিতে কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষমতায়ন এবং সমতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তবে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপনিবেশিক সময়ের বৈষম্যের প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশটিতে শ্বেতাঙ্গসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সংখ্যা কম হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ রয়ে গেছে।
সম্প্রতি একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় নাগরিকদের বাদ দিয়ে বিদেশিদের জন্য পদ খোলা রাখার ঘোষণা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করলেও বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্য বর্ণবৈষম্য কমে গেলেও এটি এখন সূক্ষ্ম আকারে বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবস্থান ও গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে দেখা হয়।
সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দেশে সবাই সম্প্রীতির মধ্যেই বসবাস করছে এবং বর্ণবৈষম্য কোনো সমস্যা নয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের দীর্ঘ প্রভাব এবং সামাজিক ধারণার কারণে এই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। অনেকেই মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়লে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
















