যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে উত্তেজনা, পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে বিভক্ত অবস্থান
তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কম আগ্রহী, বিশেষ করে যদি তা তাদের নির্ধারিত শর্তের বাইরে যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের ওপর দায় চাপিয়ে বলেছেন, তারা চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সব শক্তি রয়েছে, আর ইরানের হাতে কিছুই নেই।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, এখনো বোঝা যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী কি না। তিনি ইসলামাবাদ সফর শেষে ওমান ও পরে রাশিয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইরানের ভেতরে সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একযোগে শক্ত অবস্থান তুলে ধরছে। তারা দাবি করছে, দেশের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় বলা হচ্ছে, লক্ষাধিক মানুষ প্রয়োজনে আত্মত্যাগে প্রস্তুত—যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ বা আক্রমণ চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আরও কঠোর জবাব দেবে এবং হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা আর হওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, আলোচনা শুধুমাত্র যুদ্ধ বন্ধের জন্য সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ভিন্নমত দমনে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট—একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ, অন্যদিকে ইরানের কঠোর অবস্থান—দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ছে, ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
















