১০ মাস আটক থাকার পর বাড়ি ফিরেই ফের গ্রেপ্তার, প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র-এ এক নারী ও তার পাঁচ সন্তানকে বহিষ্কারের উদ্যোগ সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালত, যদিও মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের আবার আটক করা হয়।
হায়াম এল গামাল ও তার পাঁচ সন্তান—যাদের বয়স পাঁচ থেকে আঠারোর মধ্যে—প্রায় ১০ মাস ধরে অভিবাসন আটক কেন্দ্রে ছিলেন। সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পেয়ে কলোরাডো-তে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছিলেন।
কিন্তু বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবার তাদের আটক করে এবং দ্রুত দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে পরিবারের আইনজীবীরা জানান।
আইনজীবীদের দাবি, এই পদক্ষেপ আদালতের সরাসরি নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে। জরুরি শুনানির পর বিচারক আবারও নির্দেশ দেন, পরিবারটিকে বহিষ্কার করা যাবে না।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে, যেখানে সমালোচকদের মতে আদালতের নির্দেশও অনেক সময় উপেক্ষা করা হচ্ছে।
পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তাদের আটক করা হয়েছিল একটি হামলার ঘটনার পর, যেখানে পরিবারের এক সদস্য জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পরিবারের অন্য সদস্যদের ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীরা বলছেন, প্রায় এক বছর ধরে আটক রাখা এবং পুনরায় গ্রেপ্তার—এটি একটি “অন্যায় ও অমানবিক” পদক্ষেপ, যা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোও জানিয়েছে, শিশুদের এত দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখা সাধারণত আইনের পরিপন্থী।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার এবং বিচারিক নির্দেশনা মানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
















