আইনের পথে পা বাড়ানো এক সময় ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত—আর এখন সেই পথই যেন তাঁকে নিয়ে এসেছে এক নতুন আলোয়। কিম কার্দাশিয়ান এবার হাজির হচ্ছেন ডিজনি প্লাসের নতুন সিরিজ অল’স ফেয়ার-এ, যেখানে তিনি অভিনয় করছেন বিখ্যাত বিবাহবিচ্ছেদ আইনজীবী অ্যালুরা গ্রান্ট চরিত্রে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী কিম বলেন, “আমি বরং অপরাধবিচার ও সংস্কারমূলক কাজেই বেশি আগ্রহী। পরিবার বা ডিভোর্স সংক্রান্ত আইন আমার পেশার অংশ হবে বলে মনে হয় না।”
ছয় বছর ধরে তিনি আইন পড়ছেন—বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে সরাসরি এক শিক্ষানবিশ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, “আমার আইন স্কুলে যাওয়াটা ছিল একদমই পাগলাটে সিদ্ধান্ত, কিন্তু আজ তা পুরোপুরি অর্থবহ মনে হয়। আমি সারাজীবন কৌতূহলী থাকতে চাই, নতুন কিছু শিখতে চাই।”
চার সন্তানের মা কিম, সাবেক স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও নিজের ব্র্যান্ড স্কিমস ও রিয়েলিটি শো দ্য কার্দাশিয়ানস-এর মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিশাস্ত্র সংস্কারের দাবিতে সক্রিয়, প্রথমবার অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের জন্য শাস্তি হ্রাসের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
নতুন এই সিরিজে তাঁর সহ-অভিনেতা সারাহ পলসন, নাওমি ওয়াটস, গ্লেন ক্লোজ, নীসি ন্যাশ এবং তেয়ানা টেইলর। কিম বলেন, “আমি প্রতিদিন সেটে গিয়ে শুধু দেখতাম আর শিখতাম। এরা যেন পৃথিবীর সেরা অভিনয় শিক্ষক।”
তবে এই সুযোগ তাঁর জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি ছিল দায়িত্বেরও। “ওরা আমার ওপর একটা বিশ্বাস রেখেছে, তাই আমার একটাই লক্ষ্য ছিল—সময়মতো পৌঁছানো, সংলাপ জানা, আর কখনোই অপেশাদার না লাগা।”
‘অল’স ফেয়ার’ সিরিজটি পরিচালনা করেছেন রায়ান মারফি—‘আমেরিকান হরর স্টোরি’, ‘গ্লি’ ও ‘পোজ’-এর স্রষ্টা। এই সিরিজ দিয়েই আবারও তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন কিম। ২০২৩ সালে আমেরিকান হরর স্টোরি-র ১২তম সিজনে জনসংযোগ কর্মকর্তার চরিত্রে তাঁর প্রথম অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।
ডিজনি প্লাস জানিয়েছে, সিরিজটির ট্রেলার তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ট্রেলার। গল্পটি বিলাসী জীবনের আড়ালে থাকা ভাঙা সম্পর্ক, বিচ্ছেদের কষ্ট এবং নারীদের পুনর্জন্মের এক নাটকীয় রূপকথা। কিম বলেন, “বিচ্ছেদ খুবই সম্পর্কিত একটি বিষয়। আমি নিজেও তা দেখেছি আমার পরিবারে, আমার জীবনে। তাই চরিত্রের আবেগগুলো আমার খুব পরিচিত লেগেছে।”
সহ-অভিনেত্রী নাওমি ওয়াটস বলেন, “এই সিরিজ এমন নারীদের গল্প বলে, যারা মনে করে জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে—কিন্তু তারা আবারও উঠে দাঁড়ায়।”
রায়ান মারফির ‘নারী-কেন্দ্রিক’ গল্প বলার জাদু নিয়েও প্রশংসা করেছেন অভিনেতারা। কিম বলেন, “রায়ান এমনভাবে গল্প লেখেন, যেখানে নারীরা শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। তিনি অন্যভাবে দেখতে জানেন না।”
অল’স ফেয়ার কেবল এক আইনি নাটক নয়—এ যেন জীবনের ভাঙা অংশগুলো জোড়া লাগানোর গল্প, যেখানে আইনজীবীরা শুধু মামলা নয়, নিজেদের অতীতও মোকাবিলা করে।
এই সিরিজে একসঙ্গে রয়েছেন কিম কার্দাশিয়ান, নাওমি ওয়াটস, সারাহ পলসন, নীসি ন্যাশ ও গ্লেন ক্লোজ—সবাই এক ফ্রেমে, এক শক্তিশালী নারীকণ্ঠে। আর পর্দার পেছনে রয়েছেন কিমের মা ক্রিস জেনার, যিনি এবার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
কিমের নিজের কথায়, “আমি সেই সীমারেখায় বিশ্বাস করি না”
















