মার্ক কার্নি বলেছেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
কানাডার এই অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মন্তব্য করেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য নীতিতে এখনো বড় ধরনের অমিল রয়েছে। তার ভাষায়, কানাডা বিশ্বায়নকে আরও জোর দিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সেটির সমস্যাগুলো সংশোধনের চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আগামী ১ জুলাই এই চুক্তির বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের বলেন, “এটি এমন কোনো আলোচনা নয় যেখানে এক পক্ষ দাবি করবে আর অন্য পক্ষ তা মেনে নেবে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সমাধান আসতে হবে, আর এতে সময় লাগবে।”
ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে কানাডা ছাড় দিয়েছে। বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত একটি কর পরিকল্পনা তারা প্রত্যাহার করেছে। তবে নতুন করে কোনো বড় ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি অটোয়া।
বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রি বন্ধ রাখা এবং দুগ্ধ খাতে কোটা ব্যবস্থা অন্যতম।
মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কানাডা তাদের দুগ্ধ খাতকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুরক্ষা দিচ্ছে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য বাধা তৈরি করছে। তবে কানাডা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দুগ্ধ খাতের নীতি পরিবর্তন আলোচনার বাইরে থাকবে।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি, যদিও কর্মকর্তারা যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। একই সময়ে মেক্সিকো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে এই চুক্তির বার্ষিক পর্যালোচনা চলতে থাকবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।















