যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ঘিরে আইনি সহায়তার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ অবস্থায় রয়েছে, যদিও প্রশাসনিক চাপ ও বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন লিগ্যাল, গত বছরে তারা এক হাজারের বেশি আইনি সহায়তার অনুরোধ পেয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান বজায় রয়েছে। অধিকাংশ আবেদন এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেকেই সরাসরি হয়রানি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়ে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলন কীভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়েও অনেকে পরামর্শ চেয়েছেন।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডিমা খালিদি বলেন, প্রশাসনের চাপ ও শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বরং তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় আবেদন কিছুটা কমলেও তা এখনও কয়েক বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বোঝা যায়, আন্দোলন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনপন্থী সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে শাস্তির হুমকি দিয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতাও করেছে, যাতে আন্দোলন সীমিত করা যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা দেশত্যাগের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
তবে এই কঠোর পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু আইনি সাফল্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আদালতের রায়ে কিছু ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনিক চাপ ও বিধিনিষেধ বাড়লেও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন থেমে নেই। বরং আইনি সহায়তার বাড়তি চাহিদা এই আন্দোলনের স্থায়িত্ব ও বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















