জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটিতে আরও বড় মাত্রার আরেকটি কম্পনের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা Japan Meteorological Agency জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে সমুদ্রের নিচে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
প্রাথমিকভাবে ৩ মিটার পর্যন্ত ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হলেও সর্বোচ্চ ঢেউ ছিল প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার। কয়েক ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। আরও বড় কম্পন হলে তা ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার হতে পারে এবং নতুন করে বড় ঢেউ তৈরি হতে পারে।
ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। কিছু বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল এবং প্রায় ১০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জাপানের অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অব ফায়ার”-এ হওয়ায় দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের একটি। প্রতি বছর এখানে প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প ঘটে।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনো দেশটির মানুষের মনে তাজা। সেই দুর্যোগে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং Fukushima nuclear plant-এ ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
















