কেনিয়ার কিসুমু কাউন্টির কাগওয়েল গ্রামের বাসিন্দা রোডা অঙ্গোচে আকেচ ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো লেক ভিক্টোরিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞা ভেঙে দেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর এবং সাত সন্তানের জননী হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
স্থানীয় সমাজে প্রচলিত ছিল, নারীরা মাছ ধরতে গেলে নানা অনৈতিক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিশেষ করে মাসিক চলাকালে নারীরা পানিতে নামলে মাছ কমে যায়—এমন বিশ্বাসও প্রচলিত ছিল। এসব কুসংস্কার সত্ত্বেও আকেচ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
এর আগে তিনি মাছ বিক্রির কাজ করতেন, কিন্তু পুরুষ জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করা ক্রমেই অলাভজনক হয়ে উঠছিল। বাড়তি খরচ ও কম লাভের কারণে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হন তিনি।
২০০১ সালে পাশের হোমাবে এলাকা থেকে কয়েকজন নারী এসে মাছ ধরা শুরু করলে অনুপ্রাণিত হন আকেচ। এরপর দুই যুবকের সহায়তায় তিনি নিজেও মাছ ধরা শেখেন এবং ধীরে ধীরে সমাজের বাধা অতিক্রম করেন।
প্রথমদিকে তিনি একাই মাছ ধরতেন। প্রায় ১৬ বছর পর ২০১৮ সালে ফেইথ আওর আঙ্গাও নামে আরেক নারী তার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ২০২০ সালে ডরকাস আওয়িও এবং ২০২২ সালে জ্যানেট এনডওয়েই এই দলে যোগ দেন। বর্তমানে তারা একটি ছোট দল গড়ে তুলেছেন।
মাছ ধরার মাধ্যমে তারা আগের তুলনায় বেশি আয় করতে পারছেন। ভালো দিনে নৌকার মালিকরা ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার কেনিয়ান শিলিং পর্যন্ত আয় করেন এবং শ্রমিকরা ৫০০ থেকে ৮০০ শিলিং পান। যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
তবে এই পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক চাপই বড় কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জীবিকা সংকট নারীদের এমন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করেছে, যা একসময় কল্পনাও করা যেত না।
অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও লেক ভিক্টোরিয়ার মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শৈবালের বৃদ্ধি এবং অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
লেক ভিক্টোরিয়ার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের জীবিকা এখন ঝুঁকির মুখে। অতিরিক্ত মাছ ধরা, দূষণ, আগ্রাসী প্রজাতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তবে সব বাধা সত্ত্বেও আকেচ ও তার সঙ্গীরা প্রতিদিন ভোরে নৌকা নিয়ে লেকে নামেন। তাদের জন্য এটি শুধু জীবিকা নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীকও হয়ে উঠেছে।
















