যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্বীকার করেছেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তবে এ ইস্যুতে বাড়তে থাকা পদত্যাগের দাবি তিনি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সোমবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে স্টারমার বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ম্যান্ডেলসনকে ওই পদে না দেওয়ার যে সুপারিশ করেছিলেন, তা যদি তিনি আগে জানতেন, তাহলে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতেন। তিনি দাবি করেন, এ তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
স্টারমার আরও বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীদের কাছে না পৌঁছানো বিস্ময়কর এবং এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা তার এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, স্টারমার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাননি এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্টারমার জানান, গত সপ্তাহেই তিনি প্রথমবারের মতো জানতে পারেন যে নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই নিয়োগ ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যান্ডেলসন দায়িত্ব নেন। তবে মাত্র সাত মাস পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কংগ্রেস কমিটির প্রকাশিত নথিতে তার সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পর্কের বিস্তারিত উঠে আসে।
এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার তথ্য প্রকাশের পর পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অলিভার রবিন্সকে পদ থেকে সরানো হয়।
এদিকে এই কেলেঙ্কারির জেরে স্টারমারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মরগান ম্যাকসুইনিও পদত্যাগ করেছেন।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক সরকারকে চাপে ফেলেছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের বড় ধরনের ভরাডুবির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















