যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি বড় জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এ ঘটনাকে ইরান ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে।
এই আলোচনা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই। তবে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ এক ইরানি আলোচক নিহত হওয়ায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক সচিব আলী লারিজানি যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। মার্চের শুরুতে এক বিমান হামলায় তিনি নিহত হন, যা ইরানের কৌশলগত আলোচনায় বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি এর আগে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনাতেও নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, যিনি সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতা হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষ এই আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ কোনো সমঝোতা না হলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















