বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশবিষয়ক পুরস্কার গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কার ২০২৬ সালে ছয়জন তৃণমূল পর্যায়ের নারী পরিবেশকর্মীকে দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
১৯৮৯ সালে প্রবর্তনের পর এই প্রথমবারের মতো পুরস্কারটির সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা হলেন নাইজেরিয়ার ইরোরো তানশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বরিম কিম, যুক্তরাজ্যের সারাহ ফিঞ্চ, পাপুয়া নিউ গিনির থিওনিলা রোকা মাতবব, যুক্তরাষ্ট্রের আলানাহ আকাক হারলি এবং কলম্বিয়ার ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো।
গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কারকে অনেক সময় ‘সবুজ নোবেল’ বলা হয়। বিশ্বের ছয়টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী বিজয়ীদের প্রত্যেককে ২ লাখ ডলার করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার প্রতিনিধিত্বকারী ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো কলম্বিয়ায় বাণিজ্যিক ফ্র্যাকিং কার্যক্রম বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৮ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন, যা স্থানীয় মানুষের জীবন ও পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এশিয়ার বিজয়ী বরিম কিম দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু মামলা করে ঐতিহাসিক রায় অর্জন করেন, যেখানে আদালত সরকারের জলবায়ু নীতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে।
ইউরোপের বিজয়ী সারাহ ফিঞ্চ যুক্তরাজ্যে তেল খননের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় নিশ্চিত করেন, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানির বৈশ্বিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাপুয়া নিউ গিনির রোকা মাতবব খনির কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে একটি বড় খনি কোম্পানিকে দায় স্বীকারে বাধ্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলানাহ আকাক হারলি আলাস্কার একটি বৃহৎ খনি প্রকল্প বন্ধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেন, যা পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি ছিল।
অন্যদিকে আফ্রিকার বিজয়ী ইরোরো তানশি বিপন্ন প্রজাতির একটি বাদুড় পুনরাবিষ্কার করে তার আবাসস্থল সংরক্ষণে কাজ করছেন, যা মানবসৃষ্ট দাবানলের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে।
















