গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে আগামী ১০ বছরে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে একটি নতুন প্রতিবেদন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথভাবে প্রকাশিত গাজা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত মানব উন্নয়নে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিপুল অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
এতে উল্লেখ করা হয়, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অর্ধেকের বেশি হাসপাতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া গাজার অর্থনীতি প্রায় ৮৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের অনেকেই একাধিকবার স্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন। মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ তাদের বাসস্থান হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলো হলো আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। এতে গাজার মানব উন্নয়ন প্রায় ৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোর দিয়ে বলেছে, গাজার পুনর্গঠন অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে হতে হবে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে তা পরিচালিত হওয়া উচিত।
















