লা লিগার মঞ্চে রবিবার রাত ছিল যেন রঙিন এক পুনর্জন্মের গল্প। গত সপ্তাহে এল ক্লাসিকো পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ফের আগুন ঝরাল বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামাল, ফেরান তোরেস আর মার্কাস র্যাশফোর্ডের ত্রিমুখী আঘাতে এলচেকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও শীর্ষ লড়াইয়ে ফিরল।
এই জয়ে হানসি ফ্লিকের শিষ্যরা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের থেকে তারা এখনও পাঁচ পয়েন্ট পেছনে।
ক্যাম্প ন্যুর আকাশে ছিল হালকা শরতের আলো। ম্যাচের নবম মিনিটেই বাঁ দিক থেকে দৌড়ে এসে আলেহান্দ্রো বালদে বল বাড়ান তরুণ ইয়ামালের পায়ে। কিশোর প্রতিভার প্রথম ছোঁয়া ছিল কোমল, দ্বিতীয়টি নিখুঁত—সাবেক বার্সা গোলরক্ষক ইনাকি পেনাকে হারিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। তিন মিনিট পরেই ফেরান তোরেসের সহজ ট্যাপ ইন, ফার্মিন লোপেজের পরিমিত ক্রস থেকে আসে বার্সার দ্বিতীয় গোল।
কিন্তু এলচে হার মানেনি। প্রাক্তন বার্সা সহকারী কোচ এদার সারাবিয়ার ছেলেরা পাল্টা লড়াইয়ে অবিচল ছিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে রাফা মির একলা ছুটে এসে দুর্দান্ত এক ফিনিশে ব্যবধান কমান। এরপরই বার্সা কিছুটা চাপে পড়ে, যখন মিরের শট দু’বার পোস্টে লাগে।
তবে ভাগ্য ছিল রঙিন জার্সির দিকেই। দ্বিতীয়ার্ধে মিরের একটি দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আর সেই মুহূর্তেই যেন ঘুম ভাঙে বার্সেলোনার। ফার্মিন লোপেজের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস থেকে র্যাশফোর্ড তুলে দেন নিজের দ্বিতীয় লিগ গোল, ম্যাচের ভাগ্যও সেখানেই নির্ধারিত হয়।
চোটে জর্জরিত বার্সা—পেদ্রি, গাভি ও জোয়ান গার্সিয়ার মতো মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও—এই জয়ে ফের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। লেভানদোভস্কি ও দানি ওলমো মাঠে ফিরেছেন, দলে এসেছে ছন্দের আভাস।
ম্যাচ শেষে ফেরান তোরেস বলেন, “খেলার শুরুটা আমাদের জন্য ছিল সবচেয়ে জরুরি। আমরা জানতাম ওরা কেমন খেলবে, তাই শুরুতেই গতি আর আগ্রাসন ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। মাঝে কিছুটা গতি হারিয়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আবারও নিজেদের খুঁজে পেয়েছি।”
এই জয়ের পর বার্সেলোনা যেন আবারও নিজের ছায়ায় ফিরে এসেছে—দুঃখের ধুলো ঝেড়ে, জয়ের নরম আলোয় মুখ ভাসিয়ে। সামনে মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর লড়াই, আর কাতালান হৃদয়ে জেগে উঠেছে পুরনো বিশ্বাস—ফুটবলের রাজত্ব ফেরানো যায়, যদি ইচ্ছার আগুন অটুট থাকে।
















