১৯ বছর পর মাতৃভূমিতে: সুদানের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ময়নুলের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
ঢাকা, ০২ নভেম্বর, ২০২৫: দীর্ঘ ১৯ বছরের একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশি নাগরিক মো. ময়নুল হক। সুদানের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে আটকে থাকার পর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (Bangladesh Army) মানবিক সহায়তায় তিনি রোববার (২ নভেম্বর) স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্গম আবেই-এ সন্ধান
ময়নুল হক ঠিকাদারির কাজে প্রায় দুই দশক আগে সুদানের রাজধানী খার্তুমে গিয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিত গৃহযুদ্ধ তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র (পাসপোর্টসহ) খুইয়ে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নেন যুদ্ধবিধ্বস্ত আবেই অঞ্চলে।
তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘোরে ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। ওই সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’ – UNISFA) মোতায়েনরত বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন, ব্যানব্যাট-৩-এর একটি টহলদল হঠাৎ আবেই বাজার এলাকায় তাঁর সন্ধান পায়। বাংলাদেশের সেনাদের দেখতে পেয়ে ময়নুল হক দেশে ফেরার জন্য তাঁর প্রবল আকুতি প্রকাশ করেন।
সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গেই ময়নুল হকের আবেদনটি আমলে নেন। তাঁরা প্রথমে দেশে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য নিশ্চিত করেন এবং এরপর তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য আবেদনটি সেনাসদরের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর, গত ১৫ আগস্ট ইথিওপিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস তাঁকে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ট্র্যাভেল পারমিট’ ইস্যু করে। শুধু তাই নয়, তাঁর শোচনীয় আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তাঁর বিমান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে।
আবেগঘন মিলন
সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ময়নুল হক গত ২৯ অক্টোবর থেকে বিমানে জুবা, সাউথ সুদান পৌঁছান। সেখান থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
দীর্ঘ ১৯ বছরের বিচ্ছিন্নতার পর পরিবারের সাথে মিলিত হতে পেরে ময়নুল হক আনন্দ এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, এমন একটি মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও গর্বিত।
















