যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল প্রবাহ শুরু হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনো সাধারণ মানুষের জ্বালানির দামে প্রতিফলিত হয়নি। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের পাসকাগুলায় অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা থেকে আনা প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
কয়েক মাস আগেও এই তেল আমদানি করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর আবারও তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বেড়ে দিনে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
এই পরিস্থিতিতে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো, বিশেষ করে শেভরন, ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল তেল আনছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল তুলনামূলক সস্তা হলেও এটি ভারী ও প্রক্রিয়াজাত করা কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শোধনাগার এই ধরনের তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্যই তৈরি, ফলে এটি ব্যবহারে লাভজনক হতে পারে।
এতে করে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার কথা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম কমছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তেলের সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে দাম এখনও বেশি। অনেকেই খরচ কমাতে গাড়ি কম ব্যবহার করছেন এবং দৈনন্দিন ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তেলের দামকে প্রভাবিত করছে। ফলে স্থানীয়ভাবে তেল উৎপাদন বা আমদানি বাড়লেও তার সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল সরবরাহ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
















