গোপন সংকেত, ভেতরের সহযোগিতা ও ট্রানজিট যাত্রী ব্যবহার করে চলছিল চক্রের কার্যক্রম
বাংলাদেশি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত, পাঁচজন গ্রেপ্তার
ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বড় স্বর্ণ পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে রাজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ৩৫৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি রুপি।
৬ ও ৭ এপ্রিল পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এলাকায় নজরদারি চালিয়ে এই চক্রকে আটক করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারীরা অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতিতে স্বর্ণ বহন করত। স্বর্ণকে পেস্ট আকারে ক্যাপসুলের মধ্যে ভরে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে আনা হতো, যাতে তা সহজে শনাক্ত না হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে গোপন সংকেত ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্থানে, যেমন শৌচাগার বা নির্দিষ্ট এলাকা, পাচারকৃত স্বর্ণ আদান-প্রদান করা হতো। ট্রানজিট যাত্রার দীর্ঘ সময়কে কাজে লাগিয়ে এসব লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চক্রে বিমানবন্দরের ভেতরের একজন কর্মীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ পাওয়া গেছে। তিনি নিরাপত্তা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে পাচারকারীদের সহায়তা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও জানান, চক্রটি যোগাযোগের জন্য এনক্রিপ্টেড বার্তা ও কোড ভাষা ব্যবহার করত, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্কটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বর্ণ পাচারের কৌশল দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
















