ব্যর্থ ত্রিপোলি অভিযানের খরচ এখনো বহন করছে সাধারণ জনগণ
অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ
লিবিয়ার সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের ২০১৯–২০২০ সালের ত্রিপোলি দখল অভিযানে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ জোগানের তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে।
দ্য সেন্ট্রি নামের একটি অনুসন্ধানী সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ান ব্যবসায়ী আহমেদ গাদাল্লা হাফতার পরিবারের জন্য এই অর্থ জোগাড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি ছোট ব্যাংক থেকে এই ঋণ নেওয়া হয়, যা হাফতারের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হলেও শেষ পর্যন্ত হাফতারের বাহিনী ত্রিপোলি দখলে ব্যর্থ হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো অভিযানের জন্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ আগাম জোগাড় করা হয়।
এই অর্থের একটি অংশ রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপকে অর্থায়নেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের ব্যর্থতার পরও এই ঋণগুলো পরিশোধ করা হয়নি, ফলে এর আর্থিক চাপ এখন লিবিয়ার সাধারণ জনগণের ওপর পড়েছে।
গাদাল্লা বর্তমানে পূর্ব লিবিয়ার আর্থিক খাতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ভুয়া ঋণপত্র এবং জাল মুদ্রা প্রচলনের মতো অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া, তাকে সুদানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ও দায়মুক্তি লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতিকে আরও গভীর করছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
















