বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাহাজ পরিবহন খাতের কার্বন নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টায় কিছু প্রভাবশালী দেশের বাধা সৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর নেতারা। তাদের মতে, এই খাতে নির্গমন কমানো সম্ভব হলেও রাজনৈতিক চাপের কারণে উদ্যোগগুলো দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার সদস্য দেশগুলো ২০২৫ সালে জাহাজ থেকে নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে একটি কাঠামোতে একমত হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। এই বিলম্বকে জলবায়ু পদক্ষেপে অনীহা দেখানো দেশগুলোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই কাঠামো অনুযায়ী, নির্গমন কমাতে ব্যর্থ জাহাজগুলোর ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব, যা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে কিছু দেশ এই কাঠামো আরও দুর্বল করার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বলছে, তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী পদক্ষেপ ছাড়া বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ পরিবহন খাতে কার্বন নির্গমন কমাতে প্রযুক্তিগত সমাধান ইতোমধ্যে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রণয়ন করা সম্ভব। তাই এ খাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
এছাড়া প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় আরোপিত খরচ খুবই সামান্য হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি ব্যক্তির জন্য এই ব্যয় বছরে খুব কম হলেও এর সুফল হতে পারে ব্যাপক।
তবে শক্তিধর কিছু দেশ, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো, এই উদ্যোগে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও দৃঢ় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তারা সতর্ক করেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
















