ব্যক্তিনির্ভর নয়, জনগণের সম্পর্ককে ভিত্তি করে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত
জ্বালানি, সীমান্ত ও বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অতীতের ভুল এড়িয়ে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্ককে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বাইরে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে দাঁড় করানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের’ সম্পর্ক জোরদার করাই হবে মূল লক্ষ্য।
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশকে ৫ হাজার মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল সরবরাহ করেছে।
বিশ্বব্যাপী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আগামী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরে হুমায়ুন কবির সঙ্গী হবেন। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এটি হবে বাংলাদেশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম ভারত সফর।
তিনি বলেন, অতীতের সম্পর্কের ধরণ এখন আর কার্যকর নয়, তাই নতুন বাস্তবতায় নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
এই সফরে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতের বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহারে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া সীমান্তে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশ গুরুত্ব দেবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
















