ইসরায়েলের সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ড আইন এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার রক্ষার দাবি করলেও বাস্তবে ইইউ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ইতোমধ্যে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য বিশেষ পোশাক প্রস্তুতের কথা জানিয়েছেন, যা সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের যে চুক্তি রয়েছে, তাতে মানবাধিকার সম্মানের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইইউকে নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে।
আইনটি পাসের আগে ও পরে ইইউ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। বরং বিভিন্ন বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে মানবাধিকার মেনে চলার জন্য, যা সমালোচকদের কাছে যথেষ্ট নয়।
সমালোচকদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিনের দখল, সহিংসতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইইউর অবস্থান দ্বৈত নীতির পরিচয় দিচ্ছে। একই ধরনের ঘটনায় অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান পরিস্থিতি, বসতি সম্প্রসারণ, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে ইউরোপের নাগরিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বিপুলসংখ্যক নাগরিক ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি এখন শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইইউর নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের মতে, ইইউ যদি এখনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তা শুধু মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের ব্যর্থতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
















