অস্ট্রেলিয়া থেকে চিলিতে ফেরত পাঠানোর পথে বড় আইনি লড়াইয়ে পরাজয়
সামরিক শাসনামলে নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা
চিলির সামরিক শাসনামলে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭২ বছর বয়সী এক নারী অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন।
অ্যাড্রিয়ানা রিভাস নামে ওই নারী ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং সিডনির বন্ডাই এলাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তবে চিলি সরকার দাবি করে, দেশ ছাড়ার আগে তিনি সাতজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
চিলি প্রায় ১২ বছর আগে তার প্রত্যর্পণ চায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত তার আইনজীবীদের যুক্তি খারিজ করে দেয় এবং প্রত্যর্পণের পথ খুলে দেয়।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপিল না হলে তাকে চিলিতে পাঠানো হবে এবং সেখানে গুরুতর অপহরণের অভিযোগে বিচার হবে।
পিনোশের শাসনামলে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার হন এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
অ্যাড্রিয়ানা রিভাস ওই সময় চিলির গোপন পুলিশ সংস্থার প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের অপহরণ ও নির্যাতনে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
চিলির প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, ১৯৭৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সাত সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা নারী।
তবে রিভাস সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কোনো নির্যাতনে জড়িত ছিলেন না।
মানবাধিকারকর্মীরা এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার পথ সুগম হলো।
















