বুলেট পিঁপড়া থেকে জেলিফিশ—বিভিন্ন প্রাণীর দংশনে যন্ত্রণার তীব্রতা ভিন্ন, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা অসহনীয়
গবেষকদের মতে, স্থল ও সমুদ্রের প্রাণীর দংশনের তুলনা করা কঠিন হলেও কয়েকটি প্রজাতি সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বিবেচিত
পৃথিবীর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক দংশন কোনটি—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নেই, তবে গবেষক ও অভিজ্ঞদের মতে কয়েকটি প্রাণীর দংশন অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে পরিচিত।
কীটপতঙ্গের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এক কীটতত্ত্ববিদ বিভিন্ন প্রজাতির দংশন নিজে সহ্য করে একটি ব্যথার মাত্রা নির্ধারণ করেন। সেই তালিকায় সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে বুলেট পিঁপড়া, ট্যারান্টুলা শিকারি বোলতা এবং ওয়ারিয়র বোলতা।
বুলেট পিঁপড়ার দংশনকে বলা হয় অত্যন্ত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী, যা অনেক সময় প্রায় একদিন পর্যন্ত যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ট্যারান্টুলা শিকারি বোলতার দংশন খুব তীব্র হলেও স্বল্প সময় স্থায়ী হয়।
আরেকটি বোলতা প্রজাতির দংশনকে তুলনা করা হয়েছে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মধ্যে আটকে থাকার সঙ্গে, যা অসহনীয় ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
কিছু গবেষক আরও কয়েকটি প্রজাতিকে একই মাত্রার যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমন জাপানি জায়ান্ট হর্নেট এবং এক ধরনের বোলতা, যার দংশনে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা থাকে এবং ত্বকের ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে ছোট আকারের একটি জেলিফিশ সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। এর দংশন শুরুতে তেমন বোঝা না গেলেও কিছু সময় পর তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়, যা শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এই জেলিফিশের বিষে আক্রান্ত হলে রোগীরা প্রচণ্ড ব্যথা, বমি, ঘাম, পেশির খিঁচুনি এমনকি মৃত্যুভয়ের তীব্র অনুভূতিও অনুভব করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এই যন্ত্রণা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্থলজ ও সামুদ্রিক প্রাণীর দংশনের তুলনা করা কঠিন, কারণ কিছু ক্ষেত্রে দংশন প্রাণঘাতীও হতে পারে।
তাই কোনটি সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক—তা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির ওপর। তবে সাধারণভাবে বুলেট পিঁপড়া এবং কিছু জেলিফিশের দংশনকে বিশ্বের সবচেয়ে কষ্টদায়ক হিসেবে ধরা হয়।
















