দীর্ঘ অপেক্ষা, কঠোর নীতিমালা ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব পড়ছে পর্যটনে
পর্যটকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যটক এখন নতুন করে ভাবছেন। বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে অনেকে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন।
সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। আংশিক সরকারি অচলাবস্থার কারণে নিরাপত্তাকর্মীদের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা উপস্থিতি, বিশেষ করে অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু ভ্রমণকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভুলবশত আটক বা জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
নতুন কিছু নীতিগত প্রস্তাবও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। যেমন, কিছু দেশের নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতীত তথ্য যাচাইয়ের সম্ভাব্য নিয়ম নিয়ে আলোচনা চলছে, যা অনেকের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থানও পর্যটকদের মনোভাব প্রভাবিত করছে। কিছু ভ্রমণকারী মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তারা আগের মতো স্বাগত বোধ করছেন না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা কমেছে, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে পর্যটন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কানাডা থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অনেক ভ্রমণকারী অভিজ্ঞতাকে সহজ ও স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। যথাযথ প্রস্তুতি ও নথিপত্র থাকলে ভ্রমণ সাধারণত নির্বিঘ্ন হয়।
সব মিলিয়ে, উদ্বেগ ও বাস্তবতার মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবুও অনিশ্চয়তা কাটেনি, ফলে অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক হয়ে ভাবছেন।
















