নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন লক্ষ্য করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছে হাঙ্গেরি সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান জরুরি বৈঠক ডেকেছেন জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের।
প্রতিবেশী সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় রুশ গ্যাস পরিবহনের একটি পাইপলাইনের কাছে বিস্ফোরক পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছে অরবানের দল।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ জানান, দেশটির সেনাবাহিনী সীমান্তের কাছাকাছি একটি এলাকায় দুটি ব্যাগ ভর্তি বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে। ওই স্থানটি তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনের প্রবেশপথ থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
হাঙ্গেরি প্রতি বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রুশ গ্যাস আমদানি করে থাকে, যা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধী নেতা পিটার মাগিয়ার অভিযোগ করেছেন, এটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা এবং এর পেছনে রুশ প্রভাব থাকতে পারে।
অন্যদিকে কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এটি একটি সাজানো ঘটনা হতে পারে, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনের আগে জনসমর্থন বাড়ানো বা জরুরি অবস্থা জারি করার সুযোগ তৈরি করা।
অরবান সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ সত্ত্বেও রুশ জ্বালানি আমদানি বন্ধ করেনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় অরবান দাবি করেছেন, সস্তা জ্বালানির কারণেই দেশে কম খরচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার অভিযোগও তুলেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত এই বিস্ফোরক ঘটনার সঙ্গে ইউক্রেনের কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইউক্রেন সরকারও এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
হাঙ্গেরি সরকার ঘটনাটিকে বাস্তব হুমকি হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
















