চাঁদের পেছনে প্রবেশ করার সময় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন আর্টেমিস মিশনের নভোচারীরা। এ সময় মহাকাশযান থেকে কোনো বার্তা পাঠানো বা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
নাসার এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মানব হিসেবে যাত্রা করছেন। এতক্ষণ পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন, যা তাদের মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছে। তবে চাঁদের আড়ালে গেলে সেই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
চাঁদের কারণে রেডিও ও লেজার সংকেত বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে নভোচারীরা সম্পূর্ণ নীরবতা ও একাকীত্বের মধ্যে সময় কাটাবেন।
মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সময় পৃথিবীর মানুষ একসঙ্গে প্রার্থনা বা শুভকামনা জানাতে পারে, যাতে নভোচারীরা নিরাপদে ফিরে আসেন।
ইতিহাসে এর আগে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অ্যাপোলো-১১ মিশনের নভোচারীরা। সে সময় মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থানকালে পৃথিবী ও সহযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছিলেন। তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে গভীর একাকীত্বের হলেও শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
এই সময় পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্যও মুহূর্তটি উদ্বেগের হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ট্র্যাকিং কেন্দ্র মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করলেও সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবাই অপেক্ষায় থাকেন সংকেত ফিরে পাওয়ার জন্য।
ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করতে চাঁদের চারপাশে উপগ্রহ নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর মাধ্যমে সবসময় যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে।
চাঁদের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার পর পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতা পৃথিবীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন এবং তখন স্বস্তি ফিরে আসবে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে।
















