জ্বালানি স্থাপনা ও সেতুতে হামলার হুঁশিয়ারি, সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উত্তেজনা
ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রণালি চালু না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ইরান যদি দ্রুত প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির ওপর ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে। এর আগে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন।
গত ২৬ মার্চ ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, তাদের স্থাপনায় হামলা চালানো হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতে প্রণালিটি ব্যবহারের জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হতে পারে, যেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ফি আদায় করা হবে।
চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো যেমন সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হামলার কিছু আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন।
















