উষ্ণ এক শনিবার বিকেলে গলেটার একটি শান্ত পাড়ায় হাতে লিফলেট নিয়ে হাঁটছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী অবারি লুগো। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম রাজনৈতিক প্রচার অভিযান, কিন্তু তিনি বললেন, এখন আর চুপ থাকা যায় না। তিনি নেমেছেন “প্রস্তাব ৫০” পাসের আন্দোলনে।
লুগোর ভাষায়, “এটি এখন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। আমরা ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে লড়ছি।”
প্রস্তাব ৫০ আগামী ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালটে উঠছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন— তারা কি এমন একটি নতুন কংগ্রেশনাল মানচিত্র গ্রহণ করবেন, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে আরও পাঁচটি আসন এনে দিতে পারে?
সমর্থকরা বলছেন, এটি রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল যেভাবে নিজেদের সুবিধামতো ভোটের সীমানা নির্ধারণ করছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই প্রয়োজনীয়। বিরোধীদের মতে, এই উদ্যোগ ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান ভোটারদের কণ্ঠরোধ করবে।
দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে “গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই” বলে দাবি করছে।
আগামী মঙ্গলবারের ভোটের ফলাফল ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বর্তমানে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
টেক্সাসসহ কয়েকটি রিপাবলিকান রাজ্যে দলীয় স্বার্থে নতুন সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ সফল হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাব ৫০ সেই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভোটকে “অসৎ পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন, আর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একে “দেশব্যাপী গণতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলেছেন।
ওবামা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “এই ভোট শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য নয়, সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রস্তাব ৫০ প্রথম ঘোষণা দেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। তিনি বলেন, “রিপাবলিকান রাজ্যগুলো একের পর এক দলীয় মানচিত্র আঁকছে, আর আমরা যদি কিছু না করি, তাহলে গণতন্ত্র একপেশে হয়ে যাবে।”
২০১০ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করেছিলেন, যাতে রাজনীতির প্রভাবমুক্তভাবে ভোটাঞ্চল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রস্তাব ৫০ সেই কমিশনের কার্যক্রম ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থগিত রেখে নতুন মানচিত্র প্রণয়নের ক্ষমতা আইনসভাকে দিতে চায়।
প্রিন্সটনের গেরিম্যান্ডারিং প্রজেক্টের পরিচালক স্যামুয়েল ওয়াং বলেন, “এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসে আসন পাওয়া অনেক কঠিন হবে।”
তবে সমর্থকরা বলছেন, এই পরিবর্তন অস্থায়ী, কমিশন পাঁচ বছর পর আবার কাজ শুরু করবে। এছাড়া ভোটাররাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মানচিত্র গ্রহণ করবেন কি না।
ডেমোক্র্যাটিক নেতারা এই পদক্ষেপকে “ন্যায়বিচারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ বলেছেন, “প্রস্তাব ৫০ মানুষকে তাদের ভোটের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে— এটি পুরো দেশের গণতন্ত্রের লড়াই।”
অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন, এটি রাজনীতিবিদদের জন্য ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে খেলা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রাক্তন গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার বলেছেন, “এটি যেন প্রতিযোগিতা— কে কাকে বেশি প্রতারণা করতে পারে! টেক্সাস ভুল করেছে, আর ক্যালিফোর্নিয়া এখন সেই একই পথে হাঁটছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধান একটাই— জাতীয় পর্যায়ে নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে ভোটাঞ্চল নির্ধারণের নিয়ম করা। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন আইন পাশ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, তারা নভেম্বরের নির্বাচনে “অনিয়ম পর্যবেক্ষণ” করতে কর্মকর্তারা পাঠাবে। গভর্নর নিউজম বলেছেন, এটি আসলে ভোটার ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৭৭ বছর বয়সী ভোটার হ্যাঙ্ক বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র এখন সংকটে। অন্য রাজ্যগুলো দলীয় স্বার্থে সীমানা টানছে। তাই এবার আমাদেরও জবাব দিতে হবে। আমার ভোট হ্যাঁ।”
















