ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মনে করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক সরকার পতনের মূল কারণ ছিল সেই দেশগুলোর দুর্বল শাসনব্যবস্থা (Weak Governance)। একইভাবে তিন বছর আগে শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনের নেপথ্যেও একই কারণ বিদ্যমান ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘জাতীয় ঐক্য দিবস’ উপলক্ষে দিল্লিতে সর্দার বল্লভভাই পটেলের স্মৃতিতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় শুক্রবার (০১ নভেম্বর ২০২৫) ডোভাল এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ডোভালের মূল বক্তব্য
শাসনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অজিত ডোভাল উল্লেখ করেন যে, দেশ গঠন ও দেশকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে শাসনব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে গত সাড়ে তিন দশকে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে গণঅভ্যুত্থানের ফলে সরকারের পতনের ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন:
“বড় বড় সাম্রাজ্য, রাজতন্ত্র, গোষ্ঠীশাসনতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র বা গণতন্ত্রের উত্থান-পতন আসলে ওই দেশগুলির শাসনব্যবস্থার ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং অন্য দেশগুলিতে যে অসাংবিধানিক উপায়ে সরকারের বদল হয়েছে, তার কারণ আসলে সেখানকার দুর্বল শাসনব্যবস্থা।”
ভারতের এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের দুর্বলতাই প্রধানত দায়ী।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর উল্লেখ
বস্তুত, গত তিন বছরে ভারতের এই তিনটি প্রতিবেশী দেশেই গণবিক্ষোভের মুখে সরকারের পতন ঘটেছে:
- শ্রীলঙ্কা (২০২২): গোতাবায়া রাজাপক্ষে সরকারের পতন হয়।
- বাংলাদেশ (গত বছর): ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
- নেপাল (চলতি বছরের সেপ্টেম্বর): ‘জেন জ়ি’ (Gen Z)-এর নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের জেরে ওলির সরকার ভেঙে পড়ে।
হাসিনার ভারতে আশ্রয় ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
এদিকে, বাংলাদেশে সরকার পতনের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা ওই নির্বাচন বয়কটের ডাক দেন এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ভোটদানে বিরত থাকলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন না।
















