চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এসব হামলায় পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অবৈধ যুদ্ধের একটি ধারাবাহিক অংশ।
তিনি দাবি করেন, গত ৩৩ দিনে ৬০০টিরও বেশি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মিনাব শহরের শাজারে তাইয়্যেবা বিদ্যালয় এবং লামের্দ এলাকার একটি ক্রীড়া ভবনের ওপর হামলার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
বাঘাই বলেন, এসব ঘটনার বর্ণনায় ‘যুদ্ধাপরাধ’ শব্দটিও যথেষ্ট নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড মিলিয়ে এসব হামলা গণহত্যার পর্যায়ে পড়ে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৫০ জন ছাত্রী নিহত হয়।
একই দিনে লামের্দ এলাকায় একটি ক্রীড়া ভবন ও পাশের একটি বিদ্যালয়েও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি স্বল্পপাল্লার একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে।
এই সংঘাতের ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিমান চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।















