যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ (USMCA) ১ জুলাই প্রথম বাধ্যতামূলক যৌথ পর্যালোচনার মুখে পড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের কারণে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা উত্তর আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইউএসএমসিএ বহাল রাখতে আগ্রহী নন, যদিও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা ও মেক্সিকো স্পষ্টভাবে চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যদি তিন দেশ একযোগে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত না হয়, তবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার আওতায় থাকবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বার্ষিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলবে। বিশেষ করে উত্তর আমেরাজুড়ে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। যদিও ইউএসএমসিএর আওতাভুক্ত অনেক পণ্য শুল্কমুক্ত রয়েছে, বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন শুল্ক আরোপের ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএমসিএ বাতিল বা দুর্বল হয়ে গেলে শুধু কানাডা ও মেক্সিকো নয়, যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ দেশটির বহু অঙ্গরাজ্যের রপ্তানির বড় অংশই এই দুই প্রতিবেশী বাজারে যায়। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও রাজনৈতিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে কানাডা বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার ও নতুন বাণিজ্য অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে পারে।
















