ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুনের ভয়াবহ যুগ্ম ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। উদ্ধারকাজে ধীরগতি, সমন্বয়ের অভাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্বের অভিযোগে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। এটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রদ্রিগেজের প্রথম বড় জাতীয় সংকট।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, অনেক জায়গায় সরকারি উদ্ধারকারী দল সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। ফলে স্বজনদের উদ্ধারে সাধারণ মানুষকেই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাতে হচ্ছে।
সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভেনেজুয়েলার জরুরি সেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও বিদেশি সহায়তা কার্যক্রম চালালেও সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ত্রাণ কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি রদ্রিগেজ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। একদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে, অন্যদিকে পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, অতীতে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে দুর্নীতি ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ থাকায় এবারও সরকারের প্রতি জনআস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি ভেনেজুয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন অনিশ্চয়তার দিকে এগোতে পারে।
















